গল্পটা সোবাকিয়ান

 


সোবাকিয়ান  

সোবাকিয়ান হওয়াটা সহজ হলেও প্রকৃত সোবাকিয়ান হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলা সে এক দুঃসাহসিক ব্যাপার । সাপ্তাহিক টিউটোরিয়াল, শতভাগ উপস্থিতি, সহশিক্ষা কার্যক্রম, ত্রৈমাসিক সেমিস্টার, মডেল টেস্ট । সবকিছুর সমন্বয়ে সৃষ্টি হওয়া এই প্রতিকূল অবস্থার মোকাবিলা করতে নিজেকে তৈরি করতে হয় একজন সাহসিক, কষ্টসহিষ্ণু, সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতা সম্পন্ন ব্যাক্তিত্বের অধিকারী হিসাবে । 

কলেজ বলতে পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা গলাধঃকরণ করে ভালো রেজাল্ট অর্জন করা নয় । বরং জীবনের ভাবার্থককে ভিন্নভাবে উদঘাটন করা, বাস্তবতাকে বুঝতে শিখা এসবের সূচনাও হয় এই কলেজ জীবন হতে । 

সোবাকিয়ান জীবনের স্থায়িত্বকাল বছর দুয়েক হলেও প্রকৃত অর্থে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ জীবনের অস্থিমজ্জায় নিমজ্জিত থাকে । সোবাক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের আলোয় আবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি করে পুরো বিশ্বকে জানার উদ্দীপনা । গড়ে তোলে জীবন যুদ্ধের সৈনিক হিসাবে । 

একটা সময় সোবাকিয়ান জীবনের পরিসমাপ্তি হবে । এতোদিনের কাটানো রঙিন স্মৃতিগুলো একে একে মস্তিষ্কে ভিড় করবে । অনুভুত হবে মুহুর্তগুলোর শূন্যতা । 

চাইলেও সেদিন ড্রেস গায়ে দিয়ে চিরচেনা প্রাঙ্গনে ক্লাস করার সুযোগ পাবো না । জীবন চলবে জীবনের মতো শুধু উপকৃত হবে সে যে এই দুবছরের স্মৃতিগুলোকে রঙে রাঙাতে পেরেছে ।