বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে লেখা যে বই
December 15, 2022
বুক রিভিউ
বই পরিচিতি
মামুন মুসতাসিরের লেখা 'আদুভাই এখন ভার্সিটিতে' বইটি এইবার বইমেলাই প্রথম প্রকাশিত হয়েছে । আর এটি লেখকের চতুর্থ গ্রন্থ । বইটি বাংলা একাডেমির সর্বশেষ বানানরীতি অনুসরণে রচিত ।
বইটি লেখা হয়েছে ৫টি ছোট গল্পের সমন্বয়ে । ‘আদুভাই এখন ভার্সিটিতে’ ব্যতিত ‘এককাপ ডিপ্রেশন’ , ‘দেনমোহর’ , ‘গল্পটা উসকানিমূলক’ এবং ‘স্পাইর্গাল’ গল্পের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে এই বইটি । বইটিতে তুলে ধরা সকল গল্পগুলো কাল্পনিক হলেও এগুলো আমাদের সমাজের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্য রয়েছে । বলতে গেলে এগুলো আপনার আমার মনের অব্যক্ত কথা । বইয়ের প্রতিটা গল্পের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মোহাবিষ্টতা ।
গল্প গুলোর মূলব্যক্ত ছিল অনেকটা এই রকম-
“এক কাপ ডিপ্রেশন”
এই গল্পটা আজকাল অনেক মানুষের কাছেই অতিপরিচিত । বিষয়টি হলো ‘আত্মহত্যা’ । যারা আজকাল সমাজে বলে যাচ্ছে আত্মহত্যা সবকিছুর সমাধান নয়,তারাই কিছুদিন পর এই ভয়ংকর পথটি বেছে নেয় । সমাজে এই ধরনের লোকের সংখ্যা অনেক । গল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী ‘মালিহা’কে নিয়ে-যে কাজ করতো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতার সাথে । বিশ্ববিদ্যালয়ে যত অপকর্ম ঘটিত হতো সবগুলোইতেই ওই নেতার নাম ছিল । তাই বাধ্য হয়ে মালিহা তার সাথে কাজ করতে রাজি হয় । মালিহার মাধ্যমেই মেয়েদের মাঝে ড্রাগ সাপ্লাই দিতো । মালিহা শুধু ওর প্রেমিকা ছিল না,বরং ড্রাগ বহন করার মাধ্যমও ছিল । কিন্ত এই কাজ বেশিদিন স্থায়ী ছিল না, এক সাংবাদিক এই সকল কর্মকান্ড প্রশাসনকে জানিয়ে দেয় । তখন মালিহার বেছে নেয় আত্মহননের পথ । আর এভাবেই ইচ্ছা না থাকা সত্বেও মালিহাকে এই অবৈধ কাজ করে যেতে হয়েছিল । যার সর্বশেষ পরিনাম হয়েছে আত্মহনন ।
“আদুভাই এখন ভার্সিটিতে"
ছোট বেলা আমরা কম বেশি অনেকেই আদু ভাইয়ের গল্প পড়ে এসেছি । এখানে ঠিক একই আদুভাই ছিল তবে তার প্রেক্ষাপট ছিল একটু ভিন্ন । এখানের আদু ভাই পড়তো অনার্স প্রথম বর্ষে । তবে তিনি ছিলেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে । তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নানান সময় নানান জায়গায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নানান প্রতিবাদ করেন । তবে ফলটা তার বিপরীতেই এসেছিল । যার মধ্য অন্যতম হলো তার ফাঁসির রায় । বিশ্ববিদ্যালয়ের এক খুনের মামলায় তাকে সহ আরো কতজনকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয় । সাথের বাকীরা ছাড়া পেলেও তাকে আসামি হয়েই থাকতে হয় । এবং তাকে আদালত কর্তৃক ফাঁসির রায় শুনানো হয় । পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রীদের সহযোগিতার ফলে আসল খুনিকে ধরতে পারে এবং আদুভাইকে ছাড়িয়ে আনে ।
“দেনমোহর”
এই গল্পটি লেখা মূলত ‘ওসমান’ নামক এক পুরুষকে ঘিরে । যেকিনা বর্তমান সমাজের নিযার্তনের শিকার । শুধুমাত্র দেনমোহররের কারনে তিনি তার বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন নি । দেনমোহর আদায় করা ফরজ হলেও যদি একাটাকে কেউ অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তখন ব্যাপারটা হবে পুরো উল্টো । মেয়েপক্ষ হতে কুড়িলক্ষ টা দেনমোহর হিসাবে দাবি করেন । যা ওসমান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেন নি । যার ফলে ভালোবাসার মানুষটি বিয়ে করতে পারন নি । এবং আজীবন সিঙ্গেলই থাকতে হয়েছে ।
“গল্পটা উসকানিমূলক”
এই গল্পটি লেখা চারপাশের সমাজব্যবস্থার নিচ মানসিকতা নিয়ে । আমাদের সমাজে একটা প্রাপ্ত বয়ষ্ক ছেলে কিংবা মেয়ে বিয়ের কথা পরিবারের বললে পরিবার থেকে একটাই উওর আসে সেটা হলো - তুই তো এখনো ছোট । কিন্তু কিছুদিন পর যখন অন্য ছেলের সাথে পালিয়ে যায়/প্রেম নামক পাপ কাজে লিপ্ত হয় তখন পরিবার জানা সত্বেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায় না । যার ফলে আমাদের সমাজ পাপে কলুষিত হয় । আমাদের এই নিচ মানসিকতা থেকে আমাদের বের হতে হবে । পাপ কাজকে সহজ না করে সমাজে বিয়েকে সহজ করতে হব । তাহলে অন্তত সমাজ পাপে কলুষিত হবে না ।
“স্পাইর্গাল”
এই গল্পটির মূল চরিত্র হচ্ছে ‘স্মার্থা’ নামক এক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে নিয়ে । সে ছিল তার কমিউনিস্ট পার্টির অসাধারন একজন গুয়েন্দা । যাকে নিয়োগ করা হয়েছিল ‘হাসান তারিক’ নামক এক মুসলমান যুবকের পিছনে । আর তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল হাসান তারিকের সকল পরিকল্পনার খবর সংগ্রহ করে তাকে নিজের মোহে বশ করা । যদিও স্মার্থা পরবর্তীতে তার ভূল বুঝতে পেরে আত্মহনন করতে চেয়েছিল কিন্তু, শেষ পযর্ন্ত তাকে হাসান তারিক নামক লোকটি বাঁচিয়েছিলেন । যদিও তখন হাসান তারিকের কোনো পরিচয় জানতেন না । পরবর্তীতে বিদায়ের পর স্মার্থা হাসান তারিকের এক ডায়েরিতে বুঝতে পারে যে তাকে বাঁচানোর লোকটাই ছিল মূলত হাসান তারিক ।
সর্বশেষ
একজন পাঠক হিসাবে এই ৫টি গল্পের যেকোনো একটি হলেও আপনার ভালো লাগতে বাধ্য । কারন,তার লেখা সকল গল্পগুলোই ছিল আপনার আমার মনের না বলা কিছু গল্প নিয়ে । লেখক হিসাবে মামুন মুনতাসির নতুন হলেও তার লেখায় রয়েছে মোহাবিষ্টতা ।
