ষোলো - ম্যাগাজিন রিভিউ

 

বই পরিচিতি

অন্ধকারকে আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়েই ষোলোর পথচলার শুরু । চারপাশ যখন দুনিয়াবি আলো ছড়াতে ব্যস্ত । তখন পূর্ব আকাশের উদিপ্ত সূর্যের মতো ষোলোর আগমন । যুবকদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে পরকালের ধ্যান ধারনা ঢুকিয়ে দেওয়াই যাদের মূল উদ্দেশ্য ।  মূলত ষোলো লস্টমডেস্টি টিম এর কর্তৃক সম্পাদন হয় । যুবকদের মানসিকতা বিকৃতির জন্য তাদের উপর ভিত্তি করে দেশে অনেক ধরনের সেকুলার ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে । যেখানে হারামকে ভালো ভাবেই প্রদর্শন করা হচ্ছে । ম্যাগাজিনকে নান্দনিক করে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে বেগানা নারীর ছবিকে । ম্যাগাজিনে তুলে ধরা হচ্ছে নানান হারাম বিষয়বস্তুকে । এই অন্ধকার জগৎ হতে দিনের আলোয় আনার শুরুটা করেছে ষোলো । 

প্রকাশিত ম্যাগাজিন


ষোলোর কর্তৃক সম্পাদিত ম্যাগাজিন এটা প্রথম নয় । এর আগেও কতগুলো অনলাইন ভার্সন ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিলো লস্টমডেস্টি টিম । তবে নানান বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে তারা তাদের প্রথম হার্ড কপি “ডিসেম্বর ২০২১” সংখ্যা বের করে ।
 

হার্ডকপির বিবরন


হার্ডকপিটি সুসজ্জতি করা হয়েছে ১৭টি টপিক নিয়ে । ম্যাগাজিনের মোট পৃষ্ঠা ছিলো ৬২ টি । ম্যাগাজিনের একটি আকর্ষনীয় বিষয় হলো এর ডিজাইন । নিদারুণ রুপে সজ্জিত করা হয়েছিলো পুরো ম্যাগাজিনটিকে । গল্প, সীরাহ, প্রবন্ধ এবং কবিতা দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিলো ১৭ টি টপিক । টপিকগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে এমন অনেক গুনাহগুলোকে নিয়ে যেগুলো আমরা হাস্য রসিকতা করতে গিয়ে করে থাকি । আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো এই গুনাহগুলোকে আমরা গুনাহ হিসাবে ভেবেই দেখি না । দিনের পর দিন নিশ্চিন্তে এগুলো করে যাচ্ছি । 
সবচেয়ে সুন্দর টপিকটি ছিলো “বদলে যাবার দিনগুলো” । এটি মূলত একটি সচেতনতা মূলক বিষয় । যেখানে যুবকদের করা সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হারাম সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার সহজ ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি উল্লেখ করা আছে । সাথে এই হারাম সম্পর্কের ভয়াবহতাকেও তুলে ধরা হয়েছে । তাছাড়া বর্তমানে ঘটে যাওয়া আরো একটি সময় নষ্ট করা পদ্ধতি হলো “গেমিং” । দেখতে ছোট হলেও শব্দটির ভয়াবহতা বিপুল । চারপাশের একটা বিশাল সংখ্যক যুবক তাদের মূল্যবান সময়গুলোকে নষ্ট করছে গেইম খেলে । কিছুদিন পরপর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে গেইমের জন্য আত্মহত্যা করার মতো ভয়ানক বিষয়গুলো । তাছাড়া এই গেইমের মাধ্যমে অনেক হারাম বিষয় প্রমোট করা হচ্ছে । অহেতুক সময় করাও একটি জগন্য পাপ । তাই আমাদের সকলের উচিত এই সময় নষ্ট করা বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলা । এর ভয়াবহতা সকলের নিকট তুলে ধরা । অভিভাবকদের এ ক্ষেত্রে বেশি সচেতন থাকতে হবে ৷ যুবকরা সচেতন হলেই একটি সুন্দর সমাজ এবং রাষ্ট্র তৈরি হবে । 

সর্বশেষ, আমাদের উচিত যুবকেদের উদ্দেশ্য করে নেয়া উদ্যােগগুলোর পাশে থাকা । এর ফলে দিনকে দিন দ্বীনের আলো ছড়াতে সবাই আগ্রহ পাবে ।