হিরো আলমের লেখা প্রথম বই

 

বুক রিভিউ


📙বইঃ দৃষ্টিভঙ্গি বদলান,আমরা সমাজ বদলে দেবো


শীত যেমন সকলে উপভোগ করতে পারেনা কারো কারো জন্য দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তেমনি হিরো আলমের হিরো' হওয়াটাও অনেকের জন্য দুর্বিষহ হয়ে ওঠে ।
নাম তার আশরাফুল আলম সাঈদ । জন্ম বগুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত এরুলিয়া গ্রামে । আমাদের সকলের কাছে
তিন 'হিরো আলম' নামে পরিচিত । তবে, আশরাফুল আলম থেকে 'হিরো আলম' হওয়ার রাস্তাটা কিন্তু মোটেই
সহজ ছিল না । আর তার এই চাপা পড়া কষ্টের কাহিনী নিয়েই লেখা এই বইটি । সাথে শুরুতেই হাল ছেড়ে দেওয়া 
/ আত্মহণনের পথ বেছে  নেওয়া কিছু লোকদের জন্য রয়েছে কিছু উৎসাহ মূলক বার্তা ।  

বয়স তখন তার মাত্র ৮ । তখন তার সময় ভালোই কাটছিলো কিন্তু সেই সময় বেশিদিন তার পক্ষে থাকে নি । সে 
ছিলো পরিবারের একমাত্র সন্তান । তার ছোট একটি বোন জন্মের সাথে সাথেই মারা যান । তার বাবার   বগুড়াতে 
একটি     চানাচুর পাশাপাশি আচার তৈরির ফ্যাক্টরী ছিল । সেখানে এক নারীকে বিয়ে করেন । কিছু দিন       পর  
বাড়িতে আসেন  এবং  একদিন বৃষ্টির রাতে পিটিয়ে  তাকে এবং তার মাকে ঘর থেকে বের করে দেন।

এর পর হতেই কঠিন জীবনের শুরু । সপ্তম শ্রেনীতেই  তার শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে হয় । তারপর তিনি    তার 
 জীবনে নানান ধরনের ব্যবসা শুরু করেছেন । চানাচুর,আচার হতে শুরু করে সিডি,ডিস,সিনেমা বানানো,   ভ্রমন 
সংস্থা এই   ধরনের ব্যবসা করতে হয় তাকে । তাছাড়া নির্বাচনে তিনি এম.পি আসনেও দাড়িয়েছিলেন        ( যদিও 
সেবার তার ভাগ্যে ছিল   না ) । তার জীবনের যেই শখগুলো ছিল তার সবগুলোই তিনি পূরন করেছেন যার          মধ্যে 
অন্যতম মিউজিক বিডিও বানানো ও     সিনেমা  তৈরি করা । আজ পর্যন্ত সে ৫৫০+ মিউজিক বিডিওতে কাজ   করেছে 
(২০১৯ সালের মধ্যে) । তবে তার আরো একটি স্বপ্ন  আছে  যেটি সে মৃত্যুর আগে হলেও পূরন করতে চায় ।

 "আমি সেই সকল বিধবা মা এবং যারা স্বামী পরিত্যাক্ত নারী এবং শিশুদের জন্য একটি সংস্থা করে যেতে চাই  যাতে,আমার মায়ের মতন আর কোন মা কে বৃষ্টি ভেজা রাতে অসহায় অবস্থায় একাকী না থাকতে হয়"

আর হে, ডিসের ব্যবসা চালানোর সময় এক মেয়ের সাথে তার ধর্ম পিতা বিয়ে দেয় । আর সে মেয়ে পক্ষ হতে কোনো 
প্রকার যৌতুক নেন নি এবং দেন-মোহর হিসাবে দশ হাজার টাকা নির্ধারন হয় । ২০০৯ সালে তিনি সালমা    আক্তার 
নামে এক নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এবার শুরুতেই হাল ছেড়ে দেওয়া / আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া লোকদের জন্য তার কিছু বার্তাঃ

আপনারা শিক্ষিত সমাজের শিক্ষিত মানুষ,দেখতেও সুন্দর সুঠাম তবে আপনারা কেন আত্মাহত্যার পথ বেঁছে নেন?  


এবার তার বলা কিছু মর্মান্তিক কথাঃ

•আত্মহত্যা করলে সেদিনই করতাম যেইদিন রাতে,আমাকে সহ আমার মা কে বৃষ্টিভেজা রাতে,মারধর করে বের 
করে  দিয়েছিল আমার বাবা ।

• আত্মহত্যা করলে সেদিনই করতাম,যেদিন স্কুলের ব্যাগ কাঁধ থেকে নামিয়ে চানাচুরের ঝুড়ি কাঁধে নিতে হয়ছিল

• আত্মহত্যা করলে সেদিন ও করতে পারতাম যখন বাবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও বাবার পরিচয় কোথাও দিতে  পারি 
নি ?

• আত্মহত্যা করলে সেদিনও করতে পারতাম, যেদিন হাজার হাজার টাকা ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে         বিভিন্ন 
মানুষের  লাঠি ও গালি খেতে হয়েছিল

• আত্মহত্যা করলে তখনও করতে পারতাম, যখন স্কুল -কলেজের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে        মাঠে 
নামে এবং  সকলের সম্মুক্ষে অত্যাচারের স্বীকার হয় এবং আমি কা -পুরুষ এর মতো বগুরা বসে কিছুই     করতে 
পারিনি

• আমি আজ এই হিরো আলম বেঁচে আছি শুধু মাত্র আমার মায়ের জন্য

• আমি আজ আত্মাহত্যা নিয়ে এত কিছু বলছি হয়তোবা দেখা যাবে, কোন একদিন আমাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে
রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হবে ।

 এই পুরো বইয়ে তার একটি কথা খুব মনে ধরেছে । কথাটি হলো-

আমার কষ্টের সাথে লড়াই  করে হয়তোবা আমি বিলিয়নার হতে পারি নি, কিন্তু আজ আমি সচ্ছল


সর্বশেষ বলতে চাই,
এই বইয়ে অনেক জায়গায় বানান ভুল ছিল,যদিওবা এতে পাঠকের তেমন বড় কোনো ক্ষতি হবে না । তবুও  এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে । বাকীসব কিছু বইয়ে দারুন ছিল ।