জীবন সৌন্দর্যময় করবে যে ৩টি অভ্যাস

 


আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানান ধরনের কার্য সম্পাদন করে থাকি । যদি আমাদের কাজগুলো কিংবা আমাদের মাধ্যমে গড়ে উঠা অভ্যাসগুলো হয় সুশৃঙ্খল তাহলে আমাদের জীবনের গতির ধারাও থাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ । আর সুন্দর সুন্দর অভ্যাস থাকা মানে নিজেকে আরো উন্নতিময় করে তোলা । আর এই রকম অভ্যাস ব্যাতিত সফলতার হদিস মিলে না । তেমনি আজকে আলোচনা করবো তিনটি অভ্যাস নিয়ে যে অভ্যাসগুলো নিজের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারলে জীবন হবে আরো সৌন্দর্যময় । 

ই-মেইল এর ব্যবহার 

credit: undraw

যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে আমরা কম বেশ সবাই মেসেঞ্জার কিংবা ওয়াটসঅ্যাপ এর মতো মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে থাকি । সত্যিকার অর্থে এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে যোগাযোগের প্রক্রিয়াটা যতটা সহজ হয়েছে তার থেকে বেশি এগুলো আমাদের মূল্যবান সময়গুলোকে নষ্ট করছে । এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার যুগান্তকারী পদ্ধতিটি হলো ই-মেইল ব্যবহার করা । বলছি না যে বাকী মাধ্যমগুলোকে প্রত্যাখ্যাত করতে বরং বুঝাতে চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোকে ইমেইল এ নিয়ে যেতে । এতে অনেকটা সময় বাঁচানো যাবে । তবে যারা ফেইসবুক ভিত্তিক কর্মকান্ডের ( যেমনঃ এফ-কর্মাস ) সাথে জড়িত তাদের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে । ই-মেইল ব্যবহারের সুবিধাগুলো বলছি । 
  • মেসেঞ্জারে যেই রকম হুটহাট করে যখন বিরক্তিকরভাবে নোটিফিকেশন চলে আসে ইমেইল এর ক্ষেত্রে এই বিরক্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় । 

  • ইমেইল এর ক্ষেত্রে অহেতুক কথা-বার্তার পরিমাণ বেশ কম থাকে । অনেকটা জরুরি কোনো কাজ হলে মেইল প্রেরন করা হয়ে থাকে । তাছাড়া এতে মেসেঞ্জারের মতো অনেকগুলো মেসেজ দিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করার থেকে কম মেইলে সেগুলো সম্পূর্ণ করা যায় । এতে সময় নষ্ট করা হ্রাস করা যায় । 

  • তাছাড়া চাকরি কিংবা অফিসিয়াল কাজকর্মে ইমেইল সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে । তাই শুরুতেই যদি ইমেইল ব্যবহার সম্পৃক্ত পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকে তবে কর্ম জীবনে বেশ কাজে লাগতে পারে । 

  • তাছাড়া এটি ব্যবহারের মাধ্যমে বাকীসব সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি দূরীকরণ কিংবা সেগুলোর উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে । 

অলসতা দূরীকরণ 

credit: undraw

আমরা আমাদের পিছনে ফিরলে দেখতে পাবো কাজের একটা বিশাল স্তুপ জমে আছে । করবো করবো বলে এখনো সেগুলো সম্পূর্ণ করছি না । আর এই বদঅভ্যাস এর কবলে পড়লে একটা সময় শেষে করুন অবস্থা ভোগ করতে হবে । যতই দেরি করবেন ততই সেই কাজটা করার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হবে । আর মনে রাখতে হবে কোনো কাজের সবচেয়ে কঠিনতম স্তর হলো কাজ শুরু করাটা । কোনো কাজ শুরু করে ফেলেছেন মানে কাজটির অর্ধেক সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন । তাই কাজের প্রতি অলসতা দূরীকরণের কার্যকরী উপায় হচ্ছে মস্তিষ্কে ভাবার সময় না দিয়ে কাজটি শুরু করে দেওয়া । 

আইডিয়াগুলো লিপিবদ্ধ করা

credit: undraw

বেশিরভাগ সময়ই এমন ঘটনা হয় যে মাথায় বেশ ভালো একটি আইডিয়া আসে কিন্তু একটা সময় পর সেই আইডিয়া আর মনে থাকে না । অনেক সময় বেশ কার্যকরী আইডিয়া আসলেও লিপিবদ্ধ করার অভাবে তার হদিস বিলীন হয়ে যায় । তবে এমনটা হতে দেওয়া কোনো বুদ্ধিসম্পন্ন লোকের কাজ না । যখনই মাথায় কোনো আইডিয়া সৃষ্টি হবে সাথে সাথে লিপিবদ্ধ করে ফেলা উচিত । এতে পরবর্তীতে অনেকগুলো আইডিয়ার কোনো একটিকে প্রয়োগ করে হয়তো জীবনটাকে পুরো রুপে বদলে ফেলতে পারেন । হাতের কাছে সবসময় কাগজের অস্তিত্ব না থাকলেও মোবাইলের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় । তাই আইডিয়া লিপিবদ্ধ করতে এই ডিজিটাল ডিভাইসটি বেশ কাজের হতে পারে । এক্ষেত্রে কিছু এপ কাজে আসতে পারে । যেমনঃ Google Keep, Notion ।

আইডিয়া লিপিবদ্ধ করার সময় কিছুদিক লক্ষ রাখতে হবেঃ

  • শুধু আইডিয়া নাম লিখে না রাখা ।

  • আইডিয়াকে সম্পূর্ণরুপে লিপিবদ্ধ করা । এক্ষেত্রে টাইটেল এ আইডিয়ার নাম এবং ডেক্সক্রিপশনে আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু তুলে ধরা । যেমনঃ আইডিয়ার প্রয়োগক্ষেত্র, এর উপযুক্ত সময় কিংবা প্রয়োগের পদ্ধতি । 

উপরের উল্লেখিত অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করতে পারলে হয়তো সময়গুলোকে আরো যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাবে । তাছাড়া উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এইসব অভ্যাস রপ্ত করতে পরবর্তীতে সেগুলোর ফল ভোগ করতে পারবে । 
বইটই এ আর্টিকেলটি পড়ুন ( ক্লিক করুন )